* ইয়াবা সিন্ডিকেটের মাফিয়া নুর কামালের সঙ্গে আইনজীবী সহকারী রানার কথিত যোগসাজশ!
* মাদক মামলায় আইনী সহায়তার পাশাপাশি প্রশাসনিক শেলটারও দেন মুহুরি রানা ও তার জুনিয়র দুর্জয়।
কক্সবাজার প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় চট্টগ্রামের নুর কামালকে ঘিরে ইয়াবা কারবারের একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির সদস্য আইনজীবী সহকারী রানা’র সঙ্গে নুর কামালের কথিত যোগাযোগ, লেনদেন এবং আইনি বিষয় ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১০ এলাকায় অবস্থানের সময় নুর কামাল স্থানীয় ও রোহিঙ্গা কয়েকজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তোলেন। পরে তাদের মাধ্যমে সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক কারবারের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, আনিসুল মোস্তফা, শাহিন, খোকন, মামুনসহ কয়েকজনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কথিত এই নেটওয়ার্কে ইয়াবা সংগ্রহ, পরিবহন ও সরবরাহের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
রানাকে ঘিরে কেন প্রশ্ন?
নুর কামালের সঙ্গে আইনজীবী সহকারী রানা’র যোগাযোগ নিয়েও স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নুর কামালকে ঘিরে কোনো মাদক মামলা বা আইনি জটিলতা দেখা দিলে রানা’র মাধ্যমে আইনি সহযোগিতা নেওয়া এবং বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়। এমনকি নথিপত্রের বাণিজ্য নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবী সহকারী রানা বলেন, “এ বিষয়ে একটি মামলা আনিসুল মোস্তফার ছিল, সেটি জামিন হয়েছে। আমি আর তেমন কিছু জানি না।”
ক্যাম্প-১০-এ নুর কামালের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
নুর কামালের ক্যাম্প-১০ এলাকায় অবস্থান ও স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ক্যাম্প-১০ এলাকার সাব-মাঝি জমিলের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, নুর কামাল সেখানে রোহিঙ্গা হিসেবে ছিলেন বলে তিনি জানেন। তবে নুর কামালের ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
এদিকে ক্যাম্প-১০ এলাকার মরিয়ম, নুর কামাল ও হামিদসহ স্থানীয়দের সঙ্গে নুর কামালের যোগাযোগ ছিল এবং তাকে ক্যাম্প এলাকায় দেখা যেত—এমন তথ্যও স্থানীয়ভাবে পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
সমিতির বক্তব্য
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির সভাপতি ফোরকান আহমদ বলেন, “একজন আইনজীবী সহকারী আইনগত সহযোগিতা করতে পারেন। তবে কোনো আইনজীবী সহকারী যদি ইয়াবা বা মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট থাকেন, সেটি ভিন্ন বিষয়।”
অভিযোগের বিষয়ে নুর কামালের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনটি বন্ধ করে দেন।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং নুর কামালের কথিত মাদক-সংশ্লিষ্টতা, ক্যাম্প-১০ এলাকায় তার অবস্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনজীবী সহকারী রানা’র সঙ্গে তার কথিত যোগাযোগের বিষয়ে নানান আলোচনা এসেছে।
এদিকে ইয়াবা গডফাদার নুর কামালের সেকেন্ড ইন্ড কমান্ড শরণার্থী ক্যাম্প ১০ ব্লক জি ৩০ এর আনিসুল মোস্তফা এই সপ্তাহে জিআর ৩৬১/২৬ (উখিয়া)মামলায় জেল থেকে মুক্ত হতে যাচ্ছে এবং জোর তদবিরে নুর কামালের সহযোগী কোট অঙ্গনে মুন্সি রানা। বেপরোয়া ইয়াবা কারবারে উখিয়া থানা ও এপিবিএন পুলিশ নির্বিকার। ব্যবসা প্রসারে চট্টগ্রামের মইজ্জা টেকের নূর কামাল রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ১০ এর রোহিঙ্গা নারীকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
মরিয়ম খাতুন ও তাঁর মামা হামিদ( চটপটি ব্যবসায়ী) ইয়াবা ব্যবসার আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে এসেছেন আনিসুল মোস্তফাকে।
অন্যদিকে রানাকে ঘিরে আরও প্রশ্ন, আলোচনায় দুর্জয়ের নামও উঠে আসে।স্থানীয় পর্যায়ে রানা’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দুর্জয় নামের এক ব্যক্তির কথাও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রানা’র বিভিন্ন কার্যক্রমে দুর্জয়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা রয়েছে।