ছবি : প্রতিদিনের কক্সবাজার
# মাদকের উপর কর বৃদ্ধি করাই বিরোধীদলের মনে অশান্তি
শনিবার কক্সবাজারের পিএমখালী এলাকায় ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ সময় আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সদ্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার কড়া জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সামাজিক ও মানবিক বাজেট প্রণয়নের পরও বিরোধী দল এর সমালোচনা করছে, কারণ তাদের মূল লক্ষ্য জনকল্যাণ নয়, বরং দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা।
বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, নতুন বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি। উল্টো জনস্বার্থ বিবেচনায় ষাটটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর কমানো হয়েছে।কেবল জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী যেমন তামাকজাত পণ্য ও মাদকের ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বিশ কোটি সাধারণ মানুষই এ রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
চিকিৎসা খাতকে আরও জনবান্ধব করতে হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের ওপর থেকে কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে দেশের প্রাণশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলায় কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সরকারি প্রণোদনা পাবেন।
নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, অতীতে নারীদের শিক্ষার যে পথ উন্মুক্ত করা হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতায় এখন স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে উপবৃত্তি কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং সহজে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘পরিবার কার্ড’ চালুসহ স্বল্পমূল্যে ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শনিবার সকাল এগারোটার দিকে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে মাটি কেটে পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এই খালটির সঙ্গে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৯৭৭ সালে তিনি দেশব্যাপী যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, পাতলী খাল তারই একটি ঐতিহাসিক অংশ। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার প্রায় সাড়ে আট হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে কৃষি উৎপাদন বাড়বে প্রায় বারো হাজার মেট্রিক টন।
সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।