ছবি : কুপিয়ে জখমের শিকার আলাউদ্দিন
থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিনের বসতবাড়িতে গুলিবর্ষণ করে ভেতর ঢুকে হামলা চালিয়ে পরিবার সদস্যদের মারধর, এক নারীকে শ্লীলতাহানি, মালামাল লুটপাট করার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিনের ছোট ভাই আলা উদ্দিন (৩৭) বাদী হয়ে ১২ জনের নামোল্লেখ ও আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে পেকুয়া থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। তিনি স্থানীয় মৃত নুরুল আলমের ছেলে।
এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন, একই এলাকার জাহেদ হোছাইন, আশরাফুল মেহরাব মুহিব, আতিকুর রহমান, এনামুল হক, ইখতিয়ার উদ্দিন, মোঃ আবদুল্লাহ, আবদুল মজিদ, রাশেদ উদ্দিন, শহীদুল ইসলাম, এরশাদ হোছাইন, কামাল হোছাইন ও মোঃ রাজিব।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে একটা ও বুধবার সকালে দুইদফায় উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যাঘোনা এলাকায় ঘটেছে এ হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা। এ ঘটনায় ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, এজাহারনামীয় বিবাদি পক্ষের সঙ্গে বাদী আলা উদ্দিনের বসত ভিটার জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরধরে বুধবার ২১ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর বসত ভিটার পুকুর থেকে মাছ লুটের চেষ্টা চালায়।
এতে বাঁধা দিলে অভিযুক্ত বিবাদিরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। এ সময় বাদীকে উদ্ধার করতে তার স্ত্রী এগিয়ে এলে আসামিরা তাকেও মারধর ও শ্লীলতাহানি করে এবং কানে থাকা ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার সময় স্থানীয় এলাকাবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্ত বিবাদিপক্ষের লোকজন জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের হামলাসহ নানাভাবে হয়রানী করে আসছিলো। হামলাকারীরা সাংবাদিক গিযাস উদ্দিনকে হত্যার জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
থানায় জমা দেওয়া এজাহারে আরও বলা হয়, একই দিন রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তরা দেশীয় তৈরি বন্দুক, ধারালো কিরিচ, দা ও লোহার রড নিয়ে বাদীর বসতঘরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। শোরগোল শুনে বাদী আলাউদ্দিন ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই জাহেদ হোছাইন নামের এক আসামি ধারালো কিরিচ দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন।
এসময় অন্যান্য হামলাকারীরা তাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। চলে যাওয়ার সময় আসামিরা বন্দুক দিয়ে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলা উদ্দিনকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার বিষয়ে বাদী আলা উদ্দিন বলেন, আসামি পক্ষের লোকজন এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী। তাদের হুমকি ধমকিতে বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ইমরুল হাসান জানান, সাংবাদিকের বাড়িতে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।